প্রায় ঘন্টাখানেক হয়ে গেল ওয়েটিং রুমে বসে আছে শাওন। আজ এ অফিসের বস মির্জা সাহেবের সাথে দেখা না করে সে যাবে না। এর আগেও দু’দিন এসে ঘুরে গেছে। আজ সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে লোকটাকে একটা ক্রেডিট কার্ড করানোতে রাজি করাতে। অপেক্ষার প্রহর যখন দুই ঘন্টা ছুঁই ছুঁই, ঠিক তখনই এক পিয়ন এসে ডাক দিলো শাওনকে। শাওন পকেটে থাকা টিস্যু দিয়ে মুখে জমে থাকা ঘাম মুছে মির্জা সাহেবের রুমের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। দরজা ঠেলে খুলতেই ঠান্ডা এসির বাতাসে শরীরটা জুড়িয়ে গেল তার। মির্জা সাহেবের গম্ভীর কন্ঠ কানে ভেসে এলো, “ভেতরে আসুন” শাওন সালাম দিয়ে ভেতরে ঢুকে বসলো। কেমন আছেন কিংবা শরীর কেমন এসব ভূমিকা বাদ দিয়ে সরাসরি কাজের কথা শুরু করতে গেল সে, “স্যার, আমি এসেছিলাম টিবিএল থেকে। আমাদের ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের কিছু সুবিধা আপনাকে বলতে চাচ্ছিলাম” হাত উঁচু করে শাওনকে থামিয়ে দিয়ে মির্জা সাহেব বললেন, “ এতটা প্রফেসনাল হলে তো চলবে না! কুশল-পরিচয় ছাড়াই ক্রেডিট কার্ডের গুণ গাইতে শুরু করে দিলেন। নাহ্ । হবে না” কী হবে না, কেন হবে না সেটা বুঝতে না পেরে নিরাপদ পথেই হাঁটলো শাওন, “স্যরি স্যার। আমার নাম আফজাল হোসেন শাওন” একটু আগে পরিচয় নিয়...
Posts
আমি তো ঘরেই ছিলাম- মনদীপ ঘরাই আহা, শান্তি!আজ বহুদিন পর ঘর থেকে বের হলাম। গত পাঁচটা বছর ঘরেই ছিলাম। একই ঘরে,ছোট একটা খাটে আটকে ছিলো আমার পুরোটা জগত। এমন তো ছিলো না আমার জীবন! ছোটখাটো একটা চাকরি করতাম পোস্ট অফিসে। দৈনিক সময় মতো অফিসে যেতাম। মানুষের দুয়ারে ভালো-মন্দ খবর আর মানি অর্ডার পৌঁছে দিতাম। তারপর একদিন সময় তার ঘন্টা বাজিয়ে বললো, এবার থামতে হবে। ৩২ বছরের চাকরি শেষে অবসর নিলাম নীরবে। আরে ধুর। ওসব আবেগী চিন্তা বাদ দিন।ডাকপিয়নদের জন্য কখনো বিদায় অনুষ্ঠান-ফনুষ্ঠান হয় না। পুরো চাকরি জীবনেই মাঝে মাঝে মনে হতো, একটু অবসর দরকার, ছুটি দরকার। সত্যি বলতে কী, এখন অবসরে এসে বুঝতে পারছি...মানুষের দরকার কাজ। আর কিচ্ছু দরকার নেই জীবনে। এই কাজের অভাবেই অবসর জীবনটাতে শরীরে বাসা বাঁধতে থাকলো একের পর এক রোগ। তবুও চলেফিরে খেতে তো পারতাম তখনো। বছর পাঁচেক আগে আমার স্ত্রী বাথরুমে পা পিছলে পড়ে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে মারা যান। এত বড় শোক সহ্য করা আমার জন্য অসম্ভব ছিলো। যা হবার তাই হলো। স্ট্রোক করে বিছানায় এঁটে গেলাম পাকাপোক্তভাবে।প্যারালাইসিস। থাক থাক। রোগের গল্প আর করবো না। আমার নিজের ছেলে-মেয়েরাই বিরক্...